চাঁপাইনবাবগঞ্জ | বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ - ৩:৫২ এ.এম

৪ বছরের শিশুকে হত্যা, মাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

  • 6:45 pm - September 22, 2026

চার বছরের শিশু অপহরণ করে হত্যায় অভিযুক্ত মায়ের প্রেমিক রিপন টুডুকে (৩৫) গ্রেপ্তারের পর সোমবার দিবাগত ভোরে শিশু রাকিবা আক্তার রুহির গলিত কংকাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত নিহত শিশু রুহির মা ও তার কথিত প্রেমিকসহ ৩জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২২সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন।

এসময় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম, জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর ও কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে গ্রেপ্তারকৃত ৩ আসামিকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দেখানো স্থানের মাটি খুড়ে নিহত রুহর মরদেহের কংকাল উদ্ধার করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- সদর উপজেলার নশিপুর খোসালপুর গ্রাামের জমসেদ আলীর কন্যা ও নিহত রুহির মা জিন্নাতুন (১৯), তার কথিত প্রেমিক ওই এলাকার নেপাল টুডুর ছেলে রিপন টুডু (৩৫) ও রিপনের আত্মীয় সুজন টুডু (২০)।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়- জিন্নাতুন (১৯) সাথে ওই এলাকার মৃত নেপাল টুডুর ছেলে রিপন টুডুর (৩৫) পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। জিন্নাতুনের ইতিপূর্বে অন্যত্র বিয়ে হয়েছিল এবং সেখানে তালাক হয়। তার রাকিবা আক্তার রুহি নামে ৪ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তন রয়েছে। ৬ মাস পূর্বে থেকে রিপনের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন জিন্নাতুন। গত ৫ জুন রাতে রিপন টুডু রুহিকে হত্যা করে। পরে রিপন ও তার আত্মীয় সুজন টুডু বাড়ীর পাশে গর্ত করে মরদেহ মাটিতে পুতে রাখে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, “গত ২১ সেপ্টেম্বর নিহত শিশু রুহির নানা জমসেদ আলী বাদী হয়ে একটি এজাদার দায়ের করেন। এজাহার দায়েরের পর ডিবি ও কোতয়ালী পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেফতার করে। রাতে তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মাটি খড়া-খুড়ি করা হলে রাত ১২ টার সময় একটি গর্ত থেকে কুকুরের মরদেহ বেরিয়ে আসে। এক পর্যায পুলিশ অভিযান শেষ করে ফিরে আসে। পরে আবারও তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভোরে আবারও শিশুটির লাশ উদ্ধারে অভিযান চালায়। গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনা স্থলে গিয়ে যেখান থেকে কুকুরের মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল তার পাশে আরেকটি স্থান দেখিয়ে দেয়। পরে সেখানে ছয় ফিট মাটি খুড়ে একটি বস্রো ভেতরে রাখা শিশুটির কংকাল উদ্ধার করা হয়।”

পুলিশ জানান, যেখন থেকে জিন্নাতুন ও রিপন টুডু এক সঙ্গে থাকা শুরু করে তখন থেকে প্রাায় সময় শিশু রুহির উপর নির্যাতন চালত তারা । ঘটনার দিন প্রথমে রিপন টুডু শিশু রুহির উপর নির্যাতন শুরু করে। এ সময় মা জান্নাতুন কাপড় দিয়ে মেয়ের মুখ চিপে ধরে। যেন সে চিৎকার করতে না পরে। এ সময় শ্বাসরোধ হয়ে শিশু রুহি মারা যায়। অবস্থা সামাল দিতে রিপন টুডু তার ভাগিনা সুজন টুডুকে ফোনে ডেকে নেয়। পরে তারা বুদ্ধি করে রাতে বাড়ীর পাশে ৬ফিট একটি গর্ত করে সেইগর্তে বস্তায় ভরে শিশু রুহিকে মাটি চাপা দেয়। পরে বিষয় নিয়ে কানা ঘোষা শুরু হলে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহীত করার জন্য সম্প্রতি একটি কুকুরকে হত্যা করে ওই গর্তের পাশে পুতে রাখে। যাকে করে গন্ধ বের হলে কুকুরের গন্ধ বের হয়। মানুষ বুঝতে না পারে শিশু রুহিকে এখানে পুতে রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে গত রবিবার স্থানীয়জনগন রিপন টুডুর বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। পরে তার মোটর সাইকেল বাড়ীর আসবাবপত্র বের করে দিনাজপুর দশমাইল মহাসড়কের জামতলি বাজারে রাস্তার উপর রেখ আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। ৫ ঘন্টাপর স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও পুলিশের আস্বাসে অবরোধ তুলে নেয়। এর পরইে পুৃলিশ তৎপরতা শুরু করে আসামীদের গ্রেফতারসহ ঘটনা উদঘাটন করে।

আজ মঙ্গলবার বিকালে আসামীদেরকে কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে। বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে হেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

চাঁপাইবার্তা/ডিএন।।

স্বত্ব © চাঁপাইবার্তা.কম - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @Softs Cloud