চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাটির নিচে ১৭টি ককটেল, নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুরের একটি লেবুবাগানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ১৭টি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়নের মুন্সি মণ্ডলটোলা এলাকার একরামুল হকের লেবুবাগান থেকে…
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনাভাইরাস মহামারির সময়ের তুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ। সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকাকে ‘ডেঙ্গুর রেড জোন’ ঘোষণার পাশাপাশি ঢাকা থেকে ১৫ থেকে ২০ জন ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গত কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। বর্তমানে পৌর এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। ডেঙ্গুতে চেম্বারের সদস্য ও ব্যবসায়ী ওবাইদুল আজিম রিংকুসহ ৭৫-৮০ জন মারা গেছেন।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময়ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে এত মানুষের মৃত্যু হয়নি বলে তাদের ধারণা। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে পুরোপুরি উঠে আসছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে আরও ৪২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ১১ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালটিতে সর্বমোট ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৯ জনে।
রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ, ৮ জন নারী এবং ৭ জন শিশু (৩ জন ছেলে ও ৪ জন মেয়ে) রয়েছে।
জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পূর্বের ভর্তি থাকা ৮৩ জন এবং নতুন ৪২ জনসহ মোট রোগীর মধ্য থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ছাড়পত্র প্রাপ্তদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী এবং ১০ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য ২ জন পুরুষ রোগীকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে। এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যার মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ, ২৮ জন নারী এবং ৮ জন শিশু (৪ জন ছেলে ও ৪ জন মেয়ে) রয়েছেন।
অন্যদিকে, হাসপাতালের বহির্বিভাগেও ডেঙ্গু রোগীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বহির্বিভাগে নতুন করে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বহির্বিভাগে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১ হাজার ৬০৭ জনে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল থেকে মোট ১৩৭ জন ডেঙ্গু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে এবং এ সময়ের মধ্যে হাসপাতালে মোট ৩ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান বলেন, আমাদের এখানে চিকিৎসক সংকট রয়েছে, তার মধ্যেই সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য তিনজন চিকিৎসককে জেলা হাসপাতালে সংযুক্তি পূর্বক পদায়ন করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ. কে. এম. শাহাব উদ্দীন বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ১৫টি ওয়ার্ডকে ৮ ভাগে বিভক্ত করে টিম গঠন করা হয় এবং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। এই কার্যক্রম মূলত জনসচেতনতা বা এডিস মশার প্রজনন ধ্বংস করা। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাসাবাড়ির মালিককে জরিমানাও করা হয়েছে।
স্বত্ব © চাঁপাইবার্তা.কম - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @Softs Cloud