শেষ ভালো যার, সব ভালো তার

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম- মানুষের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার জীবনের শেষ পরিণতির উপর। কেউ যদি সমস্ত জীবন নেক আমল করেও শেষ মুহূর্তে পথভ্রষ্ট হয়ে যায়, তবে তার পূর্বের সকল আমল অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে। তাই ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুর জন্য সবসময়ই দোয়া করা দরকার।
কেউ যদি গোনাহগার জীবন যাপন করেও মৃত্যুর পূর্বে তাওবা করে সৎপথে ফিরে আসে, তবে সে সফলদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ইসলামে হুসনুল খাতিমা বা ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণের গুরুত্ব অত্যধিক। নবীজি বলেছেন, নিশ্চয়ই ভালো-মন্দ নির্ভর করে তার শেষ অবস্থার উপর (বুখারি: ৬৬০৭)
একজন আল্লাহওয়ালাকে একবার কেউ বিদ্রূপ করে জিজ্ঞেস করেছিল, আপনার দাড়ি উত্তম, নাকি আমার ছাগলের দাড়ি? তিনি ধৈর্যের সাথে জবাব দিলেন, আমি এখন এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না, কারণ আমি জানি না আমার শেষ পরিণতি কী হবে। যদি ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু হয়, তবে আমার মূল্য গোটা বিশ্ব ও তার ভেতরের সবকিছুর চেয়েও বেশি হবে। আর যদি ঈমানহীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করি, তবে আমি শূকর ও কুকুর থেকেও নিকৃষ্ট হবো। এই ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, শেষ পরিণতি কেমন হবে, সেটাই আসল বিষয়। নবীজি আরও বলেন,
যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে চায়, সে যেন ঈমানের সাথে মৃত্যু বরণ করে (নাসায়ি: ৪২০২)
ওলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন, কিছু আমল নিয়মিত করতে পারলে আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা ঈমানের সঙ্গে হুসনুল খাতিমা দান করবেন। যেমন:
১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের প্রতি দৃঢ়তা রাখা। ২. সর্বদা তওবা-ইস্তিগফার করা। ৩. সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা। ৪. কুরআন তিলাওয়াত ও দ্বীনী জ্ঞান অর্জনে মনোযোগী হওয়া। ৫. দান-সদকা ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করা।
৬. আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে সুন্নাত অনুযায়ী জীবন যাপন করা। ৭. দুনিয়ার মোহ পরিহার করে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। ৮. আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের জন্য তার স্মরণে লিপ্ত থাকা। ৯. খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নেক আমলকে অভ্যাসে পরিণত করা। ১০. সর্বদা আল্লাহর কাছে হুসনুল খাতিমার দোয়া করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা নেক আমল করে, তাদের জন্য আছে জান্নাত এবং আরও বেশি পুরস্কার (সুরা ইউনুস: ২৬) নবীজি বলেন, নেক আমল মানুষকে অশুভ পরিণতি থেকে রক্ষা করে (তাবরানি: ৬০৮৬)
অন্তিম মুহূর্তে ঈমান নিয়ে মৃত্যু হওয়াই প্রকৃত সাফল্য। আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে মৃত্যুর পূর্বে নেক আমলের তাওফীক দেন। তাই আমাদের উচিত নেক আমলের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং সর্বদা আল্লাহর কাছে শুভ-মৃত্যুর দোয়া করা। নবীজি বলেন, আল্লাহ যদি কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তবে মৃত্যুর পূর্বে তাকে ভালো কাজ করার তাওফীক দেন (তিরমিঝি: ২১৪২) সুতরাং, আমাদের সব প্রচেষ্টা যেন এ উদ্দেশ্যে হয় যে, আমরা ঈমানের সাথে আমাদের জীবন শেষ করতে পারি। কারণ, শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।
চাঁপাইবার্তা/এসটি।।