ভালো থাকার ইসলামিক উপায়

সুখী ও সুন্দর জীবন সবাই চায়। ইসলামও চায় সবাই ভালো থাকুক, সুখে থাকুক। এ জন্য কিছু উপায়ের কথা বলেছে ইসলাম। আসুন জেনে নিই, যেসব উপায়ে একজন মুমিন ভালো, সুখী ও কল্যাণময় জীবন লাভ করতে পারে।
১. যা আছে তাতেই সন্তুষ্টি
যা আছে তা নিয়ে তৃপ্ত থাকা মানসিক প্রশান্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিতৃপ্ত মন অভিযোগ করে না; হাহুতাশ থেকে বিরত থাকে। ফলে তার জীবন হয় সুখী ও সুন্দর। মূলত বান্দাকে কিছু দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতেই। সেই বিশ্বাস অন্তরে সুদৃঢ় থাকতে হবে। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই অর্জিত হয় না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, বলুন, ‘আমার রব যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন অথবা সঙ্কুচিত করেন। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না।’ (সুরা সাবা: ৩৬) রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলামের দিকে হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়েছে, যাকে প্রয়োজন মাফিক রিজিক প্রদান করা হয়েছে এবং যে তাতেই পরিতুষ্ট থাকে, সে-ই সফলকাম হয়েছে। (ইবনে মাজাহ: ৪১৩৮)
২. আল্লাহর শুকরিয়া
শুকরিয়া আদায়কারীদের সবসময় নেয়ামতের ওপর রাখা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘..যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয়ই আমার আজাব বড় কঠিন।’ (সুরা ইবরাহিম: ৭)
৩. লোভ পরিহার
দারিদ্র্যের মূল কারণ লোভ। লোভীরা নিজের অবস্থার ওপর কখনোই সন্তুষ্ট হতে পারে না। তার মানে লোভ করলে তুমি দরিদ্রই থেকে যাবে। এটি নিশ্চিত যে, যার লোভ যত বেশি, সে ততই দরিদ্রতার দিকে এগিয়ে যাবে। তাই তো নবীজি বলেছেন, লোভ করবে না, কারণ লোভই হলো নগদ দারিদ্র্য। (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৯২৮) অন্য হাদিসে এসেছে, ‘অভাবমুক্তি ও প্রাচুর্য সম্পদের আধিক্যের কারণে হয় না; বরং প্রকৃত প্রাচুর্য তো হল অন্তরের প্রাচুর্য।’ (বুখারি: ৬৪৪৬; মুসলিম: ১০৫১) হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘আদম সন্তানের যদি দুই উপত্যকা সম্পদ থাকে, সে তৃতীয় উপত্যকা চাইবে। আদমের সন্তানের পেট কেবল মাটিই ভরতে পারে। আর যে তওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।’ (মুসলিম: ১০৪৮; বুখারি: ৬৪৩৯)
৪. এমন কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকবে, যার জন্য ক্ষমা চাইতে হয়
ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে—এমন আশংকা থাকলেই ওই কথা মুখে আনা যাবে না, ওই কাজ করা যাবে না। সুন্দর জীবনের জন্য এটি নবীজির গুরুত্বপূর্ণ নসিহত। এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর দরবারে এসে বললেন, আল্লাহর রাসুল! আমাকে নসিহত করুন এবং সংক্ষেপে বলুন। তখন নবী (স.) তাকে বললেন- ১. মানুষের হাতে যা আছে, তা থেকে নিরাশ হয়ে যাও। ২. লোভ করবে না, কারণ লোভই হলো নগদ দারিদ্র্য। ৩. নামাজ এমনভাবে আদায় করবে, যেন তুমি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে যাচ্ছ! ৪. এমন কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকবে, যার জন্য পরে তোমাকে ক্ষমা চাইতে হয়। (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৯২৮)
আসলেই মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার মতো কাজ করলে ব্যক্তিত্ব খাটো হয়। প্রকৃত মুমিন ও সৎ নেতৃত্বের গায়ে আঁচড় লাগে। তবে ক্ষমা চাওয়া ব্যক্তিত্বকে খাটো করে না, মূলত বারবার ক্ষমা চাওয়ার মতো কাজ করাই এখানে উদ্দেশ্য। অনিচ্ছাকৃত ভুল হলে ক্ষমা চাওয়া ভালো গুণ। সুতরাং সতর্ক থাকতে হবে, যেন পরে ক্ষমা চাইতে হয়—এমন ভুল না হয়।
৫. আল্লাহর জিকির করা
আল্লাহর জিকির একজন মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা বিশ্বাস করেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়। জেনে রেখো, অন্তর আল্লাহর স্মরণেই প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রাদ: ২৮)
৬. মানুষের ওপর ক্রোধ না রাখা
কারো ওপর তীব্র বিরক্তি ও ক্রোধ থাকলে এখনই ঝেড়ে ফেলুন। কেননা তা আপনাকেই বেশি ভোগাবে। এই প্রার্থনা করুন ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে ও আমাদের পূর্ববর্তী ভাইয়েরা যারা ঈমান এনেছে তাদের ক্ষমা করুন, ঈমানদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি দয়ালু পরম করুণাময়’। (সুরা হাশর: ১০) সুতরাং সুখী সুন্দর জীবনের জন্য ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বান্দার ক্রোধ সংবরণে যে মহান প্রতিদান রয়েছে, তা অন্য কিছুতে নেই।’ (ইবনে মাজাহ: ৪১৮৯)
৭. আত্মীয়তা রক্ষা করা
ইসলামে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা এ জন্যই খুব মারাত্মক গুনাহ। কোনো কোনো হাদিসে সরাসরি বলা হয়েছে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (বুখারি: ৫৯৮৪; মুসলিম: ২৫৫৬) তাই আবু জর গিফারী (রা.)–কে নবীজি (স.) জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আত্মীয়রা মুখ ফিরিয়ে নিলেও তুমি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করবে।’ আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, আমি শুনেছি, আল্লাহর রাসুল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তাঁর মৃত্যুর পরে সুনাম থাকুক, তবে সে যেন আত্মীয়ের সঙ্গে সদাচরণ করে। (বুখারি: ২০৬৭)
৮. মানুষের সন্তুষ্টির চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে বলতে শুনেছি, মানুষ নাখোশ হলেও যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী কাজ করে, মানুষের বিপরীতে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৪)
৯. আল্লাহকে ছাড়া অন্যকাউকে ভয় না করা
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সে তো শয়তান। সে তোমাদেরকে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়; কাজেই যদি তোমরা মুমিন হও তবে তাদেরকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় করো।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৭৫) আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘..যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনে তার কোনো ক্ষতি ও কোনো অন্যায়ের আশঙ্কা থাকবে না।’ (সুরা জ্বিন: ১৩)
১০. সবসময় সত্যের পথে থাকা
প্রিয়নবীজি (স.) বলেছেন, ‘সত্য পুণ্যের পথ দেখায় এবং পুণ্য জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। একজন মানুষ (অবিরত) সত্য বলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে তাকে খুব সত্যবাদী হিসেবে লেখা হয়। পক্ষান্তরে মিথ্যা পাপের পথ দেখায় এবং পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। একজন মানুষ (সর্বদা) মিথ্যা বলতে থাকলে শেষ অবধি আল্লাহর কাছে তাকে মহা মিথ্যাবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।’ (বুখারি: ৬০৯৪)
১১. তাকওয়া বা আল্লাহভীতি
আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো আর জেনে রেখো আল্লাহ মুত্তাকিদের সঙ্গে আছেন। (সুরা বাকারা: ১৯৫)। পবিত্র কোরআনে আরো বলা হয়েছে, যে আল্লাহকে ভয় করবে আল্লাহ তাকে বিপদাপদ থেকে নিষ্কৃতি দেবেন এবং তাকে ধারণাতীত রিজিক দান করবেন। (সুরা তালাক: ২-৩)
১২. আল্লাহর ওপর ভরসা করা
মুমিন কখনও আল্লাহ ছাড়া অন্যকারো ওপর ভরসা করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘...তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাকো, তবে আল্লাহর ওপরেই ভরসা করো।’ (সূরা মায়েদা: ২৩) আল্লাহর ওপর ভরসাকারীদের নগদ পুরস্কার হলো- তিনিই ওই বান্দার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। বান্দার আর কিছুর প্রয়োজন হয় না। এ বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার জন্য বেরোনোর পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে জীবিকা দেন যা সে ভাবতেও পারে না। আর যে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে তিনি তার জন্য যথেষ্ট হন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার কাজ চূড়ান্তকারী। অবশ্যই আল্লাহ প্রত্যেক কাজের জন্য একটা পরিমাপ ঠিক করে রেখেছেন।’ (সুরা তালাক: ২-৩)
১৩. আল্লাহর হুকুম পালনে কারো নিন্দার পরোয়া না করা
আল্লাহর নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করার দরকার নেই। আল্লাহর সম্মান সবার ওপরে। মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই। আল্লাহর পছন্দের বান্দাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো- মহান আল্লাহর হুকুম পালনে কারো নিন্দার পরোয়া না করা। পবিত্র কোরআনে তিনি ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার দ্বীন থেকে ফিরে যাবে তাহলে অচিরেই আল্লাহ এমন সম্প্রদায়কে আনবেন, যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারা তাকে ভালোবাসবে। তারা মুমিনদের উপর বিনম্র এবং কাফিরদের উপর কঠোর হবে। আল্লাহর রাস্তায় তারা জিহাদ করবে এবং নিন্দুকের নিন্দার ভয় করবে না। (সুরা মায়েদা: ৫৪)
১৪. সবসময় তাওবা-ইস্তেগফার করা
আল্লাহর কাছে সবসময় ক্ষমা প্রার্থনা করা পূণ্যবানদের আমল। এতে অনেক উপকার রয়েছে। বান্দারা যখন ইস্তেগফারে রত হয়ে যায়, তখন আল্লাহ যেকোনো আজাব উঠিয়ে নেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং আল্লাহ এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে (ইস্তেগফার করবে) অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন।’ (সুরা আনফাল: ৩৩)
এছাড়াও আল্লাহ তাআলা ইস্তেগফারকারীদের জীবিকার ব্যবস্থা করে দেন। নবী (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের জন্য ‘ইস্তেগফার’ (ক্ষমা প্রার্থনা) আবশ্যক করে নেবে, আল্লাহ তাকে সব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবেন, সব সংকীর্ণতা থেকে উদ্ধার করবেন এবং তাকে এমনভাবে জীবিকার ব্যবস্থা করবেন যা তার চিন্তার বাইরে।’ (সুনানে নাসায়ি: ৩৮১৯)
১৫. হিংসামুক্ত থাকা
হিংসা এমন এক ব্যাধি, যা শুধু মনের নয়, দেহেরও ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। বলা হয়ে থাকে, হিংসুকের কোনো বিশ্রাম নেই। হিংসা হিংসুককেই প্রথমে হত্যা করে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘..বলে দাও, তোমাদের আক্রোশেই তোমরা মরো..।’ (সুরা আলে ইমরান: ১১৯) হিংসা আল্লাহর জিকির থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং সর্বোপরি অন্যান্য নেক আমল এবং দ্বীন-ধর্মও ধ্বংস করে দেয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) ইরশাদ করেন, 'তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো কেননা হিংসা নেক আমল এমনভাবে খেয়ে ফেলে (ধ্বংস করে দেয়) যেমন আগুন কাঠখণ্ডকে খেয়ে ফেলে (জ্বালিয়ে শেষ করে দেয়)।' (সুনানে আবি দাউদ: ৪৯০৩)
জান্নাতে যেতে চাইলে আগে থেকেই হিংসামুক্ত পরিশুদ্ধ অন্তর অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। কারো প্রতি দুনিয়াবি কারণে ক্ষোভ পোষণ করা যাবে না, কারো ক্ষতি করার পাঁয়তারা করা যাবে না। এগুলো মানুষকে আল্লাহর দয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.)-কে বলা হলো, ‘কোন ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি বলেন, প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী সত্যভাষী ব্যক্তি। তাঁরা বলেন, সত্যভাষীকে তো আমরা চিনি; কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তরের ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, সে হলো পূত-পবিত্র নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষ যার কোনো গুনাহ নাই, নাই কোনো দুশমনি, হিংসা-বিদ্বেষ, আত্ম-অহমিকা ও কপটতা।’ (ইবনে মাজাহ: ৪২১৬)
১৬. কল্যাণের দোয়া করা
একটি সুন্দর ও কল্যাণময় জীবনের জন্য এই দোয়া করা- اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا سَأَلَكَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا اسْتَعَاذَ بِكَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ وَأَنْتَ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْكَ الْبَلاَغُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ উচ্চাণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাছআলুকা মিন খাইরি মা-ছাআলাকা মিনহু নাব্বিয়্যুকা মুহাম্মাদ। ওয়া-নায়ূযুবিকা মিনহু মিংশররি মাছ-তাআযা বিকা মিনহু নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদ। ওয়া-আংতাল-মুছতাআন, ওয়া আলাইকাল-বালাগ। ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট সেই কল্যাণ আশা করি যা তোমার নবী রাসুল (স.) তোমার নিকট আশা করেছেন এবং আমরা তোমার নিকট সেই অনিষ্ট হতে রক্ষা চাই যে অনিষ্ট হতে তোমার নবী রাসুল (স.) আশ্রয় চেয়েছেন। তুমিই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তুমিই (কল্যাণ) পৌঁছে দাও। আল্লাহ তাআলা ছাড়া অনিষ্ট রোধ করার এবং কল্যাণ পৌছানোর আর কোনো ক্ষমতাবান নেই।’
হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন— রাসুল (স.) অনেক দোয়াই করেছেন কিন্তু আমরা তার কিছুই মনে রাখতে পারিনি। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি অনেক দোয়াই করেছেন কিন্তু আমরা তার কিছুই মনে রাখতে পারিনি। তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিব না, যা সেই সকল দোয়ার সমষ্টি হবে? তখন তিনি এই দোয়াটি পড়তে বললেন। (সুনানে তিরমিজি: ৩৫২১)
চাঁপাইবার্তা/ডিএম।।