শিবগঞ্জে সিসিটিভির সূত্রে মিলল নাফিজ, ৩৬ ঘণ্টা পর গ্রেপ্তার দম্পতি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে চাচাতো বোনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ১১ মাস বয়সী শিশু নাফিজ হোসেনকে ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের…
মোবাইলে লুডু বা গেম খেললে ২ হাজার টাকা, ফসল চুরি করলে ২০ হাজার, গরু-মহিষে ফসল নষ্ট করলে ৫ হাজার এবং মাদক বিক্রি করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে। চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে নিজেদের উদ্যোগে এমন নানা বিধান চালু করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দামুদিয়াড় গ্রামের বাসিন্দারা।
এছাড়া মাদক সেবনে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং রাত ৮টার পর দলবদ্ধভাবে ঘোরাঘুরি করলেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে পারলে তথ্যদাতার জন্য রাখা হয়েছে ৫ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক মাসে গ্রামে চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাসিন্দারা। ঘুমন্ত নারীদের কান ছিঁড়ে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ তাদের। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যুবকদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে তিনটি দল। পাশাপাশি মাইকিং করে এসব বিধান প্রচার করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, গত কয়েক মাস ধরে গ্রামে চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে পারলে তথ্যদাতার জন্য ৫ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি যুবকদের নিয়ে তিনটি টিম তৈরি করে মাইকিংয়ের মাধ্যমে বিধানগুলো প্রচার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজের একটি বড় অংশ বর্তমানে মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। দিনের পর দিন এসব গেমে সময় নষ্ট করার কারণে তারা পড়াশোনা, কাজকর্ম ও সামাজিক দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অনেকেই গেমের নেশায় বিপথে যাচ্ছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আমরা চাই, আমাদের গ্রামের তরুণ প্রজন্ম মাদক, জুয়া ও অনলাইন গেমের আসক্তি থেকে মুক্ত থেকে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। সমাজে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমাতে এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেই আমরা নিজেদের উদ্যোগে কিছু বিধান চালু করেছি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং সবাইকে সচেতন করে একটি শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।
শহিদুল ইসলাম নামের আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বর্তমানে বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে মোবাইল গেমের প্রবণতা বেড়ে গেছে। অনেক তরুণ মূল্যবান সময় নষ্ট করছে এবং ধীরে ধীরে বাস্তব জীবন ও সামাজিক দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অতিরিক্ত গেমে আসক্তির কারণে কেউ কেউ হতাশা, অলসতা ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবার ও সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা চাই, তরুণরা মোবাইল গেমে আসক্ত না হয়ে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও গঠনমূলক কাজে মনোযোগী হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা সেরিনা খাতুন বলেন, কয়েকদিন আগে রাতে বাড়িতে ঘুমিয়েছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি এসে ঘুমন্ত অবস্থায় আমার কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় টানাহেঁচড়ায় আমার কানের একাংশ ছিঁড়ে যায়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ঘটনার পর থেকে এখনো আমার কান রক্তাক্ত ও যন্ত্রণায় আছে। এ ধরনের ঘটনায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। রাতে ঘুমাতেও ভয় লাগে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত এসব ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে আমরা নিরাপদে বসবাস করতে পারি। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বাঁচতে এসব আইন চালু করা হয়েছে।
আব্দুস সাত্তার নামের আরও এক বাসিন্দা তোহিদুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাস ধরে গ্রামে চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে পারলে তথ্যদাতার জন্য ৫ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি যুবকদের নিয়ে তিনটি টিম তৈরি করে মাইকিংয়ের মাধ্যমে বিধানগুলো প্রচার করা হচ্ছে।
এই কমিটির নাম দেওয়া হয়েছে দামুদিয়াড় যুব সমাজ। এই সংগঠনের সভাপতি এজাবুল হক বলেন, গ্রাম থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দূর করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে এসব বিধান চালু করা হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহা. আজম আলী বলেন, অপরাধীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয়দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
(সুশাসনের জন্য নাগরিক) সুজনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা যায়। তবে গ্রামবাসীর নিজেদের উদ্যোগে জরিমানা নির্ধারণ ও আদায়ের আইনগত ক্ষমতা নেই। এভাবে প্রচলিত আইন ও বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে শাস্তির বিধান চালু করা হলে নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে আইনসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তবে প্রচলিত আইন ও বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে এ ধরনের বিধান চালুর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, দেশে প্রচলিত আইন ও বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেরা আইন তৈরি করে কাউকে জরিমানা কিংবা শাস্তি দিতে পারেন না। অপরাধ সংঘটিত হলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের নামে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। গ্রামবাসীর উদ্যোগে চালু করা এসব বিধান সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁপাইবার্তা/জেএন।।
স্বত্ব © চাঁপাইবার্তা.কম - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @Softs Cloud